সিলেটসহ সাত জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাকুশিয়ারা ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ২৭ জুন ২০২৬
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ মোট সাত জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি বুলেটিনে জানানো হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজার অংশে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি বাড়তে থাকলে এসব এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রভাব সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পড়তে শুরু করেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া সোমেশ্বরী, খোয়াই, মনু, ধলাই, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীগুলোর পানির প্রবণতাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোণা জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা স্থানীয় নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।