হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৪, ২০২৬

স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ১৮ হাজার শ্রমিক

By গাজীপুর প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস

IMG_7418

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। হঠাৎ কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও তাদের পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরেই উৎপাদন কমে আসছিল। বেতন পরিশোধে অনিয়ম, কাঁচামাল সংকট, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া এবং আর্থিক চাপের কারণে কারখানাগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যায়। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের তৈরি পোশাক ও উৎপাদনমুখী শিল্প বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, ঋণপ্রাপ্তিতে জটিলতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্প উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, সরকারের নীতিগত দুর্বলতা ও শিল্প খাত ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের ওঠানামা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ওপর বাড়তি চাপও অনেক কারখানাকে আর্থিক সংকটে ফেলেছে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে শ্রমিকরা দ্রুত বকেয়া বেতন, চাকরিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে শিল্প খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কারখানা বন্ধের এই ঘটনায় শুধু হাজারো শ্রমিকই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।