২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই, তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষজ্বালানি গুদামে আগুন থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাতের দাবি; হামলা নাকি দুর্ঘটনা—এখনও স্পষ্ট নয়
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক নগরী দুবাইয়ে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের পর রাতের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর আমিরাতি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নাসার থার্মাল ইমেজিং বিশ্লেষণে জেবেল আলী বন্দরের কাছাকাছি একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তর গুদামে আগুন লাগার প্রমাণ মিলেছে। তবে ওই আগুন থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কয়েকটি ইরাকি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইয়েমেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে আমিরাত সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কেও কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি আল ফারজান এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং এরপরই আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখতে পান।
তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পরে জানা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুবাই শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জেবেল আলী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ও বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বন্দরগুলোর একটি। এর পাশের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে বিস্ফোরণটি কোনো সামরিক হামলার ফল, নাকি শিল্প কারখানায় দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।