শাহজালালে পরিত্যক্ত গাড়িতে ১৫৫ ভরি স্বর্ণ, চালক উধাও
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গাড়িটিতে ১৪টি স্বর্ণের বার ও ১২টি স্বর্ণের পাত পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ১ হাজার ৮১২ গ্রাম, যা প্রায় ১৫৫ দশমিক ৩৫ ভরির সমান।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা। ঘটনার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটির চালক মো. শামীম মিয়া গাড়ি রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারফ্রেইট সার্কেলের একটি দল শাহজালাল বিমানবন্দরের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।এ সময় সন্দেহজনক একটি গাড়িকে থামার সংকেত দেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
তবে সংকেত পাওয়ার পর গাড়িটি থামিয়ে চালক শামীম মিয়া দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। গাড়িটি ঘটনাস্থলেই রেখে যান তিনি।
পরে সেখানে থাকা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
গাড়ির ভেতরে মিলল স্বর্ণের বার ও পাত
প্রাথমিক তল্লাশিতে গাড়িটির ভেতর থেকে ১৪টি স্বর্ণের বার এবং ১২টি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়।
পরে গাড়িতে আরও বিস্তারিতভাবে তল্লাশি চালানো হলে স্বর্ণের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীও পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা অন্যান্য জিনিসের মধ্যে রয়েছে একটি নতুন আইফোন ১৭ প্রো, দুটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ।
এ ছাড়া গাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের আটটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, দুটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সব সামগ্রী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মালামালের তালিকা বা ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বর্ণ ২৪ ক্যারেটের
উদ্ধার করা স্বর্ণের মান যাচাই করতে কাস্টমস হাউস, ঢাকার নির্ধারিত স্বর্ণ পরীক্ষার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ২৪ ক্যারেটের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রায় ১ হাজার ৮১২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাটি বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য জব্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে, এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
চালককে খুঁজছে কর্তৃপক্ষ
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়া চালক মো. শামীম মিয়াকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পর উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অন্যান্য জব্দ করা সামগ্রীর বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, গাড়িটির মালিকানা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং স্বর্ণ পরিবহনের উদ্দেশ্যসহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনা-নেওয়া ঠেকাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ এই অভিযানে পরিত্যক্ত গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় সেই নজরদারির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের সঙ্গে কোনো চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। চালক শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা গেলে স্বর্ণের উৎস ও এর সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।