হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৩, ২০২৬

৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের

By ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গল টাইমস, ২৩ জুন, ২০২৬

46647a88-4aeb-4e58-83e8-c54ced363476

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতির খবর প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর 'ভয় দেখানোর অপচেষ্টা' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। 

একই সাথে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল সোমবার (২২ জুন) নিউ ইয়র্ক থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় সিপিজে।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ​বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন করায় এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনা করে সিপিজে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নবগঠিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর পাশাপাশি মানহানি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এই মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম প্রতিমন্ত্রী ও রিমনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

গ্রেপ্তার ও পুলিশি তৎপরতা​এই মামলায় গত ১৮

জুন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২১ জুন জামিন পাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামি—প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সারসহ দুই প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারে এখনো অভিযান চলছে।

সিপিজের তীব্র নিন্দা​সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, “সরকারের একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশের জন্য রেজানুর ইসলামকে আটক এবং অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের অপর পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা স্পষ্টতই ভয় দেখানোর একটি অপচেষ্টা।

কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।

সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার ও ফৌজদারি মানহানির আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।”

প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান ও প্রশাসনের নীরবতা​এদিকে সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি দাবি করেছেন, তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোনো মামলা করার নির্দেশনা ছিল না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিপিজে বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিবের কাছে ই-মেইল পাঠালেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিপিজের আহ্বান​বিবৃতিতে সিপিজে উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে 

গণমাধ্যমের ওপর শারীরিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। 

চলতি জুনের শুরুতে সিপিজে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমানকে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের

কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি

তিনি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।