সাবেক মেজর সাদিককে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ, মুক্তিতে আর বাধা নেই
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক | ১৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর পুলিশের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।
ফলে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকলে তার কারামুক্তির ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের ওই আবেদন খারিজ করেন।
সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন জানান, ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তার মক্কেল উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এরপর বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেটিও প্রত্যাখ্যান করায় অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে সাদিকের মুক্তিতে আর বাধা থাকার কথা নয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ
সাদিককে বসুন্ধরা এলাকার গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৭ আগস্ট আবেদন করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী।
পুলিশের আবেদনে দাবি করা হয়, ওই মামলার তদন্তে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক মেজর সাদিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সাদিকের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন—ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন, তাহলে কারাগারে অবস্থান করে কীভাবে তিনি ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত হতে পারেন?
বিষয়টি নিয়ে শুনানির সময় আদালত ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান।
পুলিশের ব্যাখ্যায় গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের অভিযোগ
আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত কর্মকর্তা লিখিত ব্যাখ্যায় সাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
পুলিশের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছাকাছি একটি কনভেনশন হলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি কথিত ‘গোপন সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।
তদন্তে সাবেক মেজর সাদিককে ওই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, সাদিক বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে একাধিক গোপন সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন।
এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল দলীয় কার্যক্রমকে সক্রিয় করা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সম্পৃক্ততার দাবি
তদন্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, কথিত এসব সভা ও প্রশিক্ষণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, সাদিকের পূর্ববর্তী নির্দেশনা, অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বসুন্ধরা এলাকায় গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে এবং সেই কারণে মামলায় তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত সংস্থার বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামরিক আদালতে সাজা, এরপর একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার
চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিকুল হক সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর একটি সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়।
সাজা কার্যকরের জন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।পরবর্তীতে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সেই মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন।এবার বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দিয়েছেন।
আদালতের আদেশে আপাতত স্বস্তি
পুলিশের লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত সাবেক মেজর সাদিককে বসুন্ধরার গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর সিদ্ধান্ত দেন।
ফলে তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য কোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ না থাকলে কারাগার থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো আইনি বাধা নেই।
সাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশের আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তিনি এসব ঘটনায় সত্যিই জড়িত ছিলেন কি না।
তবে নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালত নাকচ করায় আপাতত তার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।