এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা তানভীরের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
By বগুড়া প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরকে একটি সাইবার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান তানভীরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদনের তিন দিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে বগুড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই দিন আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সে সময় প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন উল্লেখ করে পুলিশ আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে।
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এনসিপির একটি কর্মসূচিতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে কথিত কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্যসংবলিত একটি পোস্ট দেন।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট
মামলার তদন্তে তানভীরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কথিত পোস্ট,
এর বিষয়বস্তু এবং পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা জানার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হবে।