মহাজাগতিক রোমাঞ্চ: এক আকাশে বিরল ‘ব্লু মুন’ ও ‘মাইক্রো মুন’—মুগ্ধ বিশ্ববাসী।
By বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস৩১ মে, ২০২৬
রাতের আকাশে আজ এক অসাধারণ মহাজাগতিক দৃশ্যের জন্ম নিল, যা বিশ্বজুড়ে আকাশপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। একই পূর্ণিমার রাতে একসঙ্গে দেখা গেছে বিরল দুটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা—‘ব্লু মুন’ এবং ‘মাইক্রো মুন’। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এমন যুগল উপস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক, আর তাই এই রাতটি বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সন্ধ্যা গড়াতেই বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষজন আকাশের দিকে চোখ রাখেন। পরিষ্কার আকাশ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে খালি চোখেই এই অনন্য চাঁদের দৃশ্য উপভোগ করা গেছে, যা অনেকের জন্য ছিল এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
কেন এটি ‘ব্লু মুন’—রঙ নয়, সময়ের হিসাব
অনেকেই ভাবেন ‘ব্লু মুন’ মানেই নীল রঙের চাঁদ, তবে বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। এটি কোনো রঙ পরিবর্তন নয়, বরং একটি সময়ভিত্তিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিভাষা।
চন্দ্রের পূর্ণিমা চক্র প্রায় ২৯.৫ দিনের, যা সাধারণ ক্যালেন্ডার মাসের চেয়ে সামান্য ছোট। ফলে কখনো কখনো একই মাসে দুটি পূর্ণিমা ঘটে যায়। নিয়ম অনুযায়ী সেই দ্বিতীয় পূর্ণিমাকেই বলা হয় ‘ব্লু মুন’।
চলতি মে মাসের প্রথম পূর্ণিমা হয়েছিল ১ মে, আর ৩১ মে আবার পূর্ণিমা হওয়ায় সেটিই হয়ে উঠেছে এই বছরের ‘ব্লু মুন’।
কেন এটিকে বলা হচ্ছে ‘মাইক্রো মুন’
একই রাতে চাঁদ পৃথিবী থেকে তার সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছায়, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে বলা হয় অ্যাপোজি
এই সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে সাধারণ দূরত্বের তুলনায় অনেকটা বেশি দূরে অবস্থান করে। গড় দূরত্ব প্রায় ৩,৮৪,৪৭২ কিলোমিটার হলেও আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,০৬,১৩৪ কিলোমিটারে।
এই দূরত্ব বৃদ্ধির কারণে চাঁদকে স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছোট এবং কিছুটা কম উজ্জ্বল দেখায়। এই বিশেষ অবস্থানকেই বলা হয় ‘মাইক্রো মুন’।
চাঁদের এই অবস্থান ২০২৬ সালের মধ্যে দেখা সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আকাশপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস ও অভিজ্ঞতা
বিশ্বজুড়ে আকাশ পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর থেকেই এই বিরল দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন খোলা আকাশের নিচে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তে উঠতে থাকা চাঁদকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা।
যদিও খালি চোখে আকারের সূক্ষ্ম পার্থক্য সহজে বোঝা যায় না, তবে বাইনোকুলার ও টেলিস্কোপ ব্যবহারকারীরা চাঁদের ভিন্নতাকে স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পেরেছেন।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ফটোগ্রাফারদের জন্যও এটি ছিল এক দারুণ সুযোগ, কারণ এমন বিরল চাঁদকে ক্যামেরাবন্দি করা সব সময় সম্ভব হয় না।
⸻বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাসজ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ২০২৮ সালে আবারও ‘ব্লু মুন’ দেখা যেতে পারে। তবে একই রাতে ‘ব্লু মুন’ ও ‘মাইক্রো মুন’ একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এমন বিরল ঘটনা আবার ঘটবে ২০৫৩ সালের আগে নয়।
ফলে ২০২৬ সালের এই রাতটি মহাকাশপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে—একটি অনন্য মহাজাগতিক মুহূর্ত হিসেবে।