হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১৪, ২০২৬

পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ: আহত ৩০, উত্তেজনা তুঙ্গে।

By নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী | ১৪ জুন, ২০২৬

IMG_7056

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি বেড়িবাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে কার্তিকপাশা ও মৌকরন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মৌকরন বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, ২০০৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পায়রা নদীর শাখা খালের মুখে ওই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকেই বাঁধটির উপযোগিতা নিয়ে দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।

মৌকরন এলাকাবাসীর অভিযোগ: বাঁধের কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ১০টি গ্রামের কৃষিজমি দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার শিকার হয়, যা কৃষকদের প্রতিবছর ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলে।

কার্তিকপাশা এলাকাবাসীর দাবি: বাঁধটি তাদের সুরক্ষাকবচ। এটি নির্মাণের পর থেকে তারা পায়রা নদীর প্রবল স্রোত, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। তাই তারা যেকোনো মূল্যে বাঁধটি টিকিয়ে রাখতে চান।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

মৌকরন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ছেলে মনিরুজ্জামান কুট্টি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাঁধটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার বিকালে ভেকু মেশিন দিয়ে বাঁধ কাটার কাজ শুরু করলে কার্তিকপাশা গ্রামের বাসিন্দারা বাধা দেয়। মুহূর্তেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে মৌকরন পক্ষের রাকিব (১৮), শাহাদাত হোসেন (২৫) ও ইছা আকনসহ (৩৫) অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কার্তিকপাশা গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন মাহামুদ জানান, তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, "বাঁধটি আমাদের জীবন রক্ষার মাধ্যম। নিজেদের স্বার্থে কেউ কেউ এটি ধ্বংস করতে চাইছে। এই ঘটনায় স্কুলশিক্ষক সোহরাফ হোসেন (৫২), নেছার (৩০), মাসুদ প্যাদা (৪৫) ও জাকির সরদারসহ (৪৫) অন্তত ৭-১০ জন আহত হয়েছেন।"

প্রশাসনের ভূমিকা

খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি হস্তক্ষেপে বর্তমানে বাঁধ কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, "বেড়িবাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি শান্ত করেছি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাঁধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর নেবে। আহতদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।