হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১, ২০২৬

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার।

By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমসঢাকা | ০১ জুন, ২০২৬

IMG_6612

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মতিঝিলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দাবির পক্ষে গ্রাহকদের অবস্থান

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকিং সেবায় অনিয়ম, টাকা উত্তোলনে জটিলতা এবং আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সকাল থেকেই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শত শত গ্রাহক জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং তাদের অভিযোগের কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে তারা সরাসরি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন করেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এর পরপরই সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।

টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি একের পর এক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত আলোকচিত্রীদের ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, টিয়ারশেলের ধোঁয়া ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে মতিঝিলের সড়কজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক গ্রাহককে চোখ ও মুখ ঢেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

আহত ও ক্ষয়ক্ষতি

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কেউ টিয়ারশেলের আঘাতে, কেউ ধোঁয়ার প্রভাবে এবং কেউ হুড়োহুড়ির মধ্যে আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

থমথমে মতিঝিল

ঘটনার পর মতিঝিল ও আশপাশের বাণিজ্যিক এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও রায়ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যাংকপাড়াজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।