গ্রেপ্তার এড়াতে সুড়ঙ্গে আত্মগোপন: ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিটিএল গ্রুপের সিইও পাকড়াও
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা, ২১ জুন ২০২৬
চাকরি দেওয়া, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি ও কোরবানির পশু কেনাবেচার নামে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাসার ভেতরে তৈরি করা এক গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপন করেছিলেন এই প্রতারক। অবশেষে টানা ১৮ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে তাকে খাঁচায় বন্দি করতে সমর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন।
যেভাবে চলল ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানডিএমপি সূত্রে জানা গেছে,
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল শুক্রবার রাতে গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে বাশার ঘরের ভেতর বিশেষভাবে তৈরি একটি সুড়ঙ্গে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। পুলিশ পুরো বাড়িটি অবরুদ্ধ করে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ওই সুড়ঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতারণার পাহাড় ও মামলার বিবরণসংবাদ সম্মেলনে এডিসি আল আমিন হোসাইন জানান, মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
মূল অভিযোগসমূহ: চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার মিথ্যা আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং গাড়ি ও কোরবানির পশু কেনাবেচার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ।
মামলার সূত্রপাত: গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রথম একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়।
- পলাতক জীবন: মামলা হওয়ার পর থেকেই বাশার দেশের বিভিন্ন স্থানে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
- তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায়
- একাধিক প্রতারণার মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
- ডিএমপি জানিয়েছে,
এই চক্রের সাথে
আর কেউ জড়িত
আছে কিনা
এবং আত্মসাৎকৃত
অর্থ কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বাশারকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।