হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৩, ২০২৬

ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন এলএইচবি কোচ, থাকছে আধুনিক সুবিধা ও উন্নত নিরাপত্তা

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা | ১৩ আগস্ট ২০২৬

1d1dc0a8-4165-450e-8370-1c26a88ad92f

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের লিংক হফম্যান বুশ (এলএইচবি) যাত্রীবাহী কোচ। প্রথম ধাপে ১৯টি ব্রডগেজ কোচের একটি পূর্ণাঙ্গ রেক তৈরি করে কারখানা থেকে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ)।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইটস (RITES)-এর মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সাত ধরনের ভ্যারিয়েন্টে তৈরি হতে যাওয়া এসব কোচে যাত্রীদের আরাম, বাংলাদেশের রেলপথের বাস্তবতা এবং নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধা

নতুন এলএইচবি কোচগুলোতে দীর্ঘপথের যাত্রা আরামদায়ক করতে বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

রিক্লাইনিং আসনের সঙ্গে থাকছে স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট।

ফলে যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আসন হেলিয়ে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বেবি কেয়ার রুম ও নামাজের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবায় এ ধরনের সুবিধা নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।এ ছাড়া এসি কোচগুলোতে অতিরিক্ত ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি ক্যামেরা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আংশিক খোলা যায় এমন বিশেষ জানালা রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় বাড়তি সুরক্ষা

নতুন কোচগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো উন্নত ‘ক্র্যাশওয়ার্দি’ নকশা। ইউরোপীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড EN 15227 অনুসরণ করে কোচের বডি শেল তৈরি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় কোচের কাঠামোগত ক্ষতি ও বিকৃতি কমিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের ট্রেনগুলোতে অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রী ওঠার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচের ছাদের কাঠামোও শক্তিশালী করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের স্থানীয় বাস্তবতা মাথায় রেখেই এর ভারবহন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা

কোচগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভারতীয় রেলের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশের রেল অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব কোচে ৪১৫ ভোল্টের বিশেষ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রথম রেকে থাকছে মোট ১৯টি কোচ। এর মধ্যে তিনটি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দুটি পাওয়ার কার রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তনের সমন্বয়ে তৈরি এসব এলএইচবি কোচ দেশের রেল যাত্রায় নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।

একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর আধুনিকায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন কোচগুলো।