হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১৫, ২০২৬

সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগবিএসএফ-বিজিবি বৈঠকে জোরালোভাবে উত্থাপিত সীমান্ত প্রশ্ন

By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমস |ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬

dae46b2f-a9ce-4c70-8c6c-b779009ecdb7

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক লোকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি অন্যতম প্রধান আলোচ্য হিসেবে উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিজিবি জানায়, কোনো ব্যক্তিকে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক নিয়ম, মানবাধিকার নীতি এবং দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতার পরিপন্থী।

বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে গ্রহণে সরকারের আপত্তি নেই। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই বিদ্যমান আইনি কাঠামো, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হতে হবে।

অন্যদিকে বিএসএফ দাবি করেছে, ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট তথ্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। ভারতীয় পক্ষ দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ‘পুশ-ইন’ বা ‘পুশব্যাক’ চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজিবি জানিয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় তারা সীমান্তে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং যথাযথ যাচাই ছাড়া লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। একই সঙ্গে বিষয়গুলো ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হয়েছে।

বৈঠকে শুধু পুশব্যাক ইস্যুই নয়, সীমান্ত হত্যা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে যৌথ টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক মতামত উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘পুশব্যাক’ ইস্যু এখন কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, মানবাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিদ্যমান চুক্তি এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, সীমান্তে যেকোনো ধরনের একতরফা পদক্ষেপ বন্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম দুই দেশের সম্মত ও স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমবে এবং প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।