কারাগার ভেঙে পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও অধরা, ১৬৬ জনের তথ্যই মিলছে না
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বড় একটি অংশ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় কারাগার থেকে পালানো মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে ৬৯০ জন এখনও পলাতক।
এর মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৬৬ বন্দির কোনো তথ্যই বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় এবং কারা অধিদফতরের চলমান কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, ২০২৪ সালে বিভিন্ন কারাগারে সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগে বিপুলসংখ্যক বন্দি পালিয়ে যায়।
এর মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়ে যায় ৮২৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না।
এ ছাড়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গি বন্দির মধ্যে ছয়জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও তিনজন জঙ্গি পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক দেশের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক কারাগারেই ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। এতে আবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে জঙ্গি ও অন্যান্য বন্দিকে সবসময় পৃথক রাখাও সম্ভব হচ্ছে না।কারা অধিদফতরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু বন্দিদের আটক রাখাই কারা ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দিদের সংশোধন, পুনর্বাসন এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও কল্যাণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
কারাগারে স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইজি প্রিজন। গত ২৪ জুন থেকে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে ‘ক্যাশলেস’ কার্যক্রম চালু হয়েছে।
এর ফলে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি কারা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।জনবল সংকট মোকাবিলায়ও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদফতরের জন্য ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৫০০টি পদের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অনিয়ম ও দালালচক্রের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি পরীক্ষায় ভুয়া প্রার্থী শনাক্ত করা সহজ হয়েছে।
ভবিষ্যতে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকেই নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগের কথাও জানান কারা মহাপরিদর্শক।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও আটটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কারাগারের আবাসন সংকট কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।