পানির সংকটের প্রতিবাদে সিটি করপোরেশনে গিয়ে আটক ৬ যুবক
By সিলেট প্রতিনিধি | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনের দাবিতে সিটি করপোরেশনে গিয়ে ছয় যুবক আটক হয়েছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ভবনের ষষ্ঠ তলার পানি শাখায় গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিটি করপোরেশন ভবনের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জল্লারপার এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন বাসিন্দা পানির সংকটের প্রতিবাদ জানাতে কলস, বালতি ও অন্যান্য পাত্র নিয়ে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যান। তারা পানি শাখায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এ সময় পানি শাখার কর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ছয় যুবককে আটক করে নিচতলায় নিয়ে আসেন। এরপর ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ওই ছয়জনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিটি করপোরেশন ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা কোতোয়ালি থানায় রয়েছেন। সিসিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ভবনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে পানি সরবরাহে সমস্যার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংকটের কথা জানিয়েছেন সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছয় যুবক আটকের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
এদিকে জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক দাবি করেন, পানির সমস্যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এর আগেও সিটি করপোরেশনে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
গত সোমবার তারা সেখানে গেলে কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তারা আবার সিটি করপোরেশনে যান।
এহছানুল হকের দাবি, স্থানীয়রা শান্তিপূর্ণভাবেই পানির সংকটের বিষয়টি জানাতে গিয়েছিলেন।
সেখানে কোনো ধরনের ভাঙচুর হয়নি। পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার দাবিতে কর্মসূচিতে গিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে দাবি করে তিনি তাদের দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানান।
পানি সংকটের প্রকৃত কারণ, ভাঙচুরের অভিযোগ এবং আটকদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন সিসিক কর্তৃপক্ষের মামলার ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে পানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।