হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৮, ২০২৬

ভারতজুড়ে সমন্বিত অভিযানে আটক ২৫৩, আইএসআই-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অভিযোগ

By বেঙ্গল টাইমস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

IMG_9114

ভারতের ১৪টি রাজ্যে একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ২৫৩ জনকে হেফাজতে নেওয়ার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-সমর্থিত একটি কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে এসব ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানভিত্তিক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন)-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় সমন্বিত অভিযান এটি।

ভারতীয় তদন্তকারীদের অভিযোগ, নেটওয়ার্কটি গ্রেনেড হামলা, আইইডি বিস্ফোরণ, পেট্রলবোমা হামলা ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

গত ১২ আগস্ট কেন্দ্রীয় তদন্ত ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানে আইইডি, গ্রেনেড, পিস্তল, গুলি এবং নজরদারিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে এবং এসব অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেডও রয়েছে।

পাশাপাশি পুলিশ ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং ধর্মীয় স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য শনাক্ত করা এবং সংবেদনশীল স্থাপনার কাছে নজরদারি সরঞ্জাম স্থাপনের মতো কর্মকাণ্ডে নেটওয়ার্কটির স্থানীয় সদস্যদের ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে উত্তর প্রদেশে—৬২ জন।

এরপর হরিয়ানায় ৫২, দিল্লিতে ৫১ এবং পাঞ্জাবে ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্থানে ১৫, মহারাষ্ট্রে ৮ এবং উত্তরাখণ্ডে ৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

কর্ণাটক, গুজরাট ও বিহারে তিনজন করে এবং তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং কেরালায় দুজন করে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লি ও কর্ণাটকে নতুন করে মামলা বা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় এরই মধ্যে ৮০টির বেশি মামলা হয়েছে এবং দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন ও বিস্ফোরক পদার্থ আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা এখন নেটওয়ার্কটির আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের মাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, তদন্ত আরও এগোলে কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নতুন সদস্য ও সহযোগীদের নাম সামনে আসতে পারে।ভারত সরকার বলছে, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত অভিযানের সক্ষমতাও এতে আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।