হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ৩০, ২০২৬

একযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত

By গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৯ জুন ২০২৬

e5e710cc-59f4-4172-a8b2-9994883970be

গোপালগঞ্জ: শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)-এর ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চাকরিচ্যুতির আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত ১৭ শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান না করার অভিযোগ রয়েছে। অপর একজনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়ম, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ছুটির পরও যোগ না দেওয়ায় ১৬ শিক্ষক বরখাস্ত

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একাধিকবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে ফিরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ না করায় এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে রিজেন্ট বোর্ড তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

চাকরিচ্যুত ১৬ শিক্ষক হলেন— মো. আমিরুল ইসলাম,

আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, পান্থ প্রতিম সরকার, মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার, উপমা দাস, কাকলী খাতুন, ময়মুনা বেগম কলি, দেবব্রত পাল, মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, মো. মিজানুর রহমান, তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, অধরা তাহসিন, ফারজানা ইয়াসমিন, মো. উজ্জল হুসাইন এবং মাবিয়া খাতুন।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পাশাপাশি ছুটিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সকল আর্থিক সুবিধা ও অর্থ বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পিএইচডি স্কলারশিপে অনিয়মের অভিযোগে সহকারী অধ্যাপক চাকরিচ্যুত

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন, পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৩ জুন থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পাঁচ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নথি চাওয়া হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি।

পরবর্তীতে সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন, শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ এবং রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সব আর্থিক সুবিধা বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্য, একযোগে ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গোবিপ্রবির ইতিহাসে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা উচ্চশিক্ষা অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।