চট্টগ্রামের পথে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ, দেড় হাজার গাড়ির বহর
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছয় দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন জোটের নেতাকর্মীরা।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছে জোটটি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরের সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। পরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার পর লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
জোট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে লংমার্চের বহরকে কেন্দ্র করে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায়। এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাইয়ে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। লংমার্চ শেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের পক্ষে। জনগণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগলেও তাদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, এই লংমার্চ সাধারণ মানুষের কর্মসূচি।
সরকার কর্মসূচিতে বাধা দিলে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবি প্রয়োজনে এক দফা দাবিতে পরিণত হবে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জোটের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
কর্মসূচিকে ঘিরে নির্ধারিত স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর লালদীঘি ময়দানের জনসভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলে জোটসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের দাবি, সাধারণ মানুষের চলমান দুর্ভোগ ও বিভিন্ন সংকট সরকারের সামনে তুলে ধরতেই এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘোষিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাও কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন। লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের কারণে কর্মসূচিটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর লালদীঘি ময়দানের জনসভা থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।